Skip to content

সারিতা

সময় পাচ্ছি না তাঁকে নিয়ে লিখবো কয়েকদিন পর। শুধু চিঠিটা উল্ল্যেখ করছি তাঁকে নিয়ে এখানে …

সারিতা –

কেমন আছো তুমি? আমি জানি, তুমি খুব ভাল আছো। কেননা, আমার মত মানুষ তোমার ভালটা ছাড়া খারাপটা কখনো চিন্তাই করতে পারে না। আমি না তোমাকে অনেক ভালবাসি কিন্তু কখনো না বলা হয়ে উঠেনি। মানে সাহস পাই নি। আর এখন তো সম্ভবই না। কেননা এখন তুমি বিয়ে করে ফেলেছ। আমি জানি আমার এই কথাগুলোও তোমার কাছে ভাল লাগছে না। তবে একটু ভাব তো আজ যদি আমার স্থানে তুমি থাকতা তাহলে অন্যের পরিহাস তোমার কাছে কেমন লাগত? আমি  তাও জানি তোমার ভাল লাগত না, যেহেতু আমি দুপায়া একজন জীব,  হিউম্যান বিয়িং এর অন্তর্ভুক্ত সেহেতু তোমার এই পরিহাসে আমার কষ্টই হচ্ছে। আর তোমার হাসি পাচ্ছে এটা আমি বলতে পারি। আসলে কি জানো আমি চাই তুমি সবসময় হাসো। তোমার হাসি অসাধারণ। তোমার কথাগুলোও অসাধারণ। কেন জানি তোমার পরে সেই ছোটবেলা থেকেই এখন পর্যন্ত কোনও মেয়েকে ভাল লাগেনি বা কোনও মেয়েকে ভালবাসতে পারিনি। আমি জানি তুমি মনে করছ আমি মিথ্যে বলছি। আচ্ছা ভাব তো এখন আর মিথ্যেটা বলে আমার কি লাভ? 

আজ ভালবাসার কথা বলে আমার সময় নষ্ট করতে চাইনা। খুব সাহস করে কিছু কথা বলতে চাই। সেই সাথে শৈশবের কিছু স্মৃতি মনে করিয়ে দিতে চাই। তবে, যে বিষয়গুলো আমার কাছে স্মৃতিসরূপ সেই বিষয়গুলোর একেবারেই কোনও গুরুত্ব নেই তোমার কাছে। তবু বলব। আমি তো আর ইভটিজার নই। 

হা হা হা, হয়ত হাসছো নয়তবা আমার প্রতি রাগ হচ্ছে। দুটার একটা তো অবশ্যই!

প্রথমেই শুরু করব একটি বিশেষ কথা দিয়ে, আমি জানি তোমার ভাল লাগবে না তবুও প্লিজ একজন মানুষ তোমাকে ভালবাসে কিছু কথা নাহয় তার এই মলিন মুখের দিকে তাকিয়ে সয্য করে পড়লা। 

মনে পরে তোমার প্রিয় অনেকগুলো বিষয়ের মধ্যে সবচেয়ে প্রিয় ছিল তোমার রূপ। হ্যা, আমি ভুল বলছি না তুমি সাজতে অনেক পছন্দ করতা। অনেক ভাল লাগত তোমাই। আজও আমি সেই সারিতার প্রতি ক্রাশ খেয়ে বসে আছি। কম্পিউটার হ্যাং করলে যেমন কোনোও প্রোগ্রাম রান করতে পারে না আর যে প্রোগ্রামে রয়েছে তাকে এক্সিটও করতে পারে না আমি ঠিক তেমনি তোমার ভালবাসাই হ্যাং হয়ে আছি। জানিনা আমার কথাগুলো তুমি কেমন করে নিবে তবে ঘৃনার চোখে না নিলে অনেক খুশি হব! আর আখি, তাপ্তি, এনি এরা কখনোই তোমাকে নিয়ে ভাল কিছু ভাবতে পারত না মানে বলতে চাচ্ছি হিংসা করত। তুমি তো ছিলে ওদের মধ্যে মধ্যমণি। আর অনেক অনেক কিউট তো ছিলাই, দুষ্টও ছিলা প্রচুর। মনে আছে তোমার, আসিফ নামের একটা ছেলে তোমাকে পছন্দ করত।  সে প্রায় প্রায়ই বলত তোমার কথা আমি অনেকদিন সেই আবাসিকে তার সাথে মারামারিও করেছি। 

তোমার সবচাইতে প্রিয় ছিল সেন্টার ফ্রেশ। তোমার মনে নাই তবে আমার মনে আছে ওইতো আহসান মঞ্জিলের সাথের দোকান থেকে কিনতা সেন্টারফ্রেশ গুলো। যা আমি প্রতিদিন অন্তত একটা হলেই চিবুই। বিশ্বাস করো আমি তোমাকে ইমপ্রেস করার জন্য কথাগুলো বলতেছি না। আমি ছাত্র ভাল ছিলাম না তবে তোমার দিকে তাকায়া পরিক্ষা দিতাম তাই কোনও দিন আমি B, C ব্যাচ ছাড়া A ব্যাচে জীবনেও জাইতে পারতাম না। একবার হল কি জান কোনও এক ছুটির শেষে যেদিন ফার্স্ট ক্লাস ছিল সেদিনই আমাদের উইকলি পরিক্ষা হইছিল আর তুমি A ব্যাচে চলে গেছিলা। আর আমি খারাপ ছাত্র হইলেও কি আর করা অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা করে A ব্যাচে উত্তীর্ণ হইছিলাম কিন্তু কি ভাগ্য আমার  তুমি আবার B ব্যাচে চলে গেলা। এজন্য ভালভাবে পড়াশোনা করা তো দূরের কথা সারাদিন তোমাকে নিয়েই ভাবতাম। আর বেশীরভাগ সময় তুমি C-B ব্যাচেই থাকতা। আর আমি তো ফেইলটুস ছিলাম, C ব্যাচটা আমার জন্যই মনে হয় প্রযোজ্য ছিল।  তোমার  পিন ছিল 094 । 

ছোটবেলায় রাহাত নামের একটা ছেলেও তোমারে খুব পছন্দ করত তাই না? যখন টাঙ্গাইল শাহীনে ছিলা তখনকার কথা এটা। আচ্ছা যাই হোক! যে সুন্দরী তার পিছনে তো পোলাপাইন ঘুরবেই এটাই স্বাভাবিক। 

অনেকবার তোমাদের ঘাটাইল গিয়েছে। অনেক খুজেছি। কিন্তু তুমি যে ইখলাখ হোসেন আংকেলের মেয়ে তা জানলে আজ এই পরিণতি হইত না।  এটা জানলাম কবে জানো? যখন তুমারে নিয়া বিস্তর গবেষণা করলাম ঠিক তখন আর ততদিনে তোমার বিয়ে হয়ে গেছে। কি করা সবকিছু ভাগ্য। 

তবে হ্যা তুমি চারতলা না পাঁচতলায় ছিলা এটা মনে করতে পারতেছি না। খুব সম্ভাবনা রিমু মিসের অধীনে না না  কাকন মিসের অধীনে ছিলা। দিহান নামের একটা মেয়ে ছিল তোমাদের সাথে খুব মোটা যদিও তুমি এখন অনেক মোটা হয়ে গেছো। তোরা আপুর কথা মনে আছে। তখন ক্লাস এইটে ছিল। লেলিন ভাইয়ের সাথে খুব ভাব ছিল তার। হা হা … 

ত্রপা দেবনাথের কথা মনে পড়ে কি? সে খুব ভাল গান গাইতে পাড়ত। “যাও পাখি বল তারে, সে যেন ভুলে না মোরে” আরও একটা কথা তুমি ভাল নাচও পারতা একদিন লবি স্যার ক্লাসে খুব রিকোয়েষ্ট করার পর নেচেছিলা। তখন মেয়েদের বিল্ডিংয়ের ছাদে ক্লাস  হতো আমাদের। কি মনে পড়ে, আমি জানি, না মনে পরতেছে না। সেদিন ত্রপা গান গেয়েছিল “Nanna re nanna re barso re megha megha” আর সেই গানেই নেচেছিলা। আচ্ছা এটা মনে আছে কি মাঝে মধ্যেই কারেন্ট চলে গেলে খুব বিনোদন হত। বিশেষ করে লবি স্যারের ক্লাস থাকলে তো কথাই নাই। স্যারের প্রিয় গান গাইতেন যদিও সুর ছিলনা একবিন্দুও। তাও আমাদের শোনতেই হত সেই বেসুরা গান। “আসবার কালে আসলাম একা, যাইবার কালে যাব একা, মাঝে মাঝে মনরে বলি চক্ষু মেইলা কি দেখলা”

আর তাপ্তি খালি চাপাই মারত বেশী।  আমরা ক্ষেপাইতাম তারে, তাপ্তি আইক্রিম, ১ টাকা ১ টাকা বলে! সব প্যাচ লাইগাইত এই তাপ্তি। ওহো আসল সুপার হিরোয়িনের কথা বলাই হয় নাই তোমার। যে দুইবার পরীক্ষা দিয়া চান্স পাইল আঁখি আনোয়ার। মনে আছে এখনো লবি স্যার কাকন মিসের থেকে কেঁচি আনতে আমারে  আর বায়েজিত রে পাঠাইল যায়া দেখি হাফপ্যান্ট আর গেঞ্জি পইরা বসে আছে। কি লজ্জাই না পাইছিলাম সেদিন। আর কাকন মিস খুব রাগ করেছিল সেদিন। আচ্ছা বল আমরাও তো ছোট ছিলাম। তবে বায়েজীদ খুব চালাক ছিল। তোমার সাথে কথা বলতে খুব পছন্দ করত। আর বায়েজীদ ভালবাসত সূচীকে। তুমিই বলতো, বায়েজীতের সাথে কি সূচীর যায়! যেমন তোমার সাথে আমার যায় না। তবে তাদের প্রেম প্রেম পরিবেশ খুবই মজাদার ছিল। ছোটখাটো ইতিহাসের সাক্ষীও তারা। 

একদিন তো, এইটে তখন আমি মুকুল নিকেতনে ছুটিতে বের হইছি পালিকার সামনে দেখি সূচীরে। দৌড়াইয়া গেছি যায়া তোমার কথা জিজ্ঞেস করছি  ও বলল যোগাযোগ নাই শোনে আমার মনটা খারাপ হয়ে গেল। কেন জানি খালি তোমারে খুজতাম। মাঝে মধ্যেই ক্লাস না করে মুকুল থেকে দাড়োয়ান চাচারে টাকা দিয়া বাহিরে বের হয়ে খালি তোমারে খুজতাম। কোথাই কোথাই না দাঁড়াইয়া থাকছি বল ইত্যাদি থেকে শুরু করে For U, Room III, পালিকা,  বারী প্লাজা, মফিজ উদ্দিন ইনডেক্স প্লাজা এমনকি বাসাবাড়ীর খোলা বস্তি মার্কেটে। 

আমি জানি তুমি কোনও দিন বস্তি মার্কেটে যাবা না তবুও, যদি দেখা পাই। আকাশ নামের এক ছেলে ছিল ও বলেছিল তোমারে দুইদিন নর্থ টাউয়ারে দেখছে। বিশ্বাস করবা কিনা জানি না তোমার জন্য নবম শ্রেণিতে আমি মুকুল থেইকা টিসি নিয়া উত্তরা চলে গেছিলাম। এমন কোনও দিন নাই যে বিকালে সন্ধ্যায় নর্থ টাউয়ার, মাস্কট প্লাজাই তোমারে না খুজেছি। বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্কে এখনো খুজি। একটাবার দেখার জন্য। 

ইন্টারমেডিয়েট মাইলস্টোনে ভর্তি হইলাম। কার থেকে শোনলাম তুমি কেম্ব্রিয়ানে ভর্তি হইছো। ওখানেও অনেক খুজেছি পাই নাই। তোমার সাথে দেখা হবে এটা যেন আমার ভগ্যেই নেই। কেমব্রিয়ানের এমন কোনও ফ্রেন্ড নাই যারে তোমার কথা জিজ্ঞেস করি নাই। তোমারে খুজতে যায়া মাওনাতে আঁখির বাসাই ওর ভাইয়ের হাতে মাইরও খাইছি। জাষ্ট একটাবার দেখতে চাইলছিলাম এটা অপরাধের কিছুই না। 

তোমার আরেক নাম “আকা” তাই না? মনে আছে কি শুক্রবার আবাসিক থেকে বাহিরে নিয়ে যাইত তোমরা নদীর ওপারে যাইতা আমরা ছেলেরাও যেতাম । কিন্তু আমি খুব কম যেতাম। কারণ, আমার বাবা আমাকে এত টাকা দিত না যে তোমাদের মত চকবার কিনে খাব। কারণ উনার ধারণা ছিল টাকা দিলেই আমি নষ্ট হয়ে যাবো। একজন এডভোকেট এমন ভাববেন এইটাই স্বাভাবিক। হ্যা সত্যিই! দশ টাকা দিয়ে আইস্ক্রিম কিনে খেতে পারলেই নিজেরে অনেক কিছু মনে করতাম। ব্যাপারটা যদিও হাস্যকর। যে জন্যই ভালবাসার কথাটা বলা হয়ে উঠেনি। যদিও আজ আমার সবই আছে। শুধু সময়টা নেই, সেই সাথে সেই তুমি নেই। সময় বড়ই বেইমান। বিশ্বাস  কর ঈদের দিনও তোমার কথা ভাবতাম। এখন যে ভাবি না তা না ভাবি যে তুমি ভাল থাক খুশি থাক তাহলেই আমি খুশি।  আমার ভালবাসাটা এমন না যে সাথে করে নিয়ে ঘুরতে হবে। 

একদিন তোমার ছুটিতে যাওয়ার কথা ছিল। আংকেল মনে হয় রাতে আসছিল আর তুমি কি রাগই না করেছিলে মনে আছে? ওইদিন তোমাকে খুব সুন্দর লেগেছিল। হয়ত একটো বেশিই সেজেছিলা। একবার আবাসিকে হাতের নখ উঠে গেছিল আমার। যে ব্যাথা পেয়েছিলাম ,তার থেকে বেশি ব্যাথা পেয়েছিলাম তুমি বাড়ীতে যাওয়াতে। 

তোমারে এতটাই মনে থাকত যে সানোয়ার স্যারের বাংলা ক্লাসে স্যার এক কথাই প্রকাশ পড়াচ্ছিলেন আর তোমাকে যখন বলতে বলেছিলেন তুমি অন্যমনস্ক ছিলা। আর দাঁড়াইয়া বলেছিলা বা বা বা বা বাহাত্তর মানে তোমার এক কথায় প্রকাশের সিরিয়াল ছিল বাহাত্তর নাম্বার। দেখ এই সামান্য বিষয়টা হয়ত ভুলে গেছ তুমি আমি ভুলিনি। 

একদিন শীটের জন্য আমরা সবাই হুজুর স্যারের মাইর খাইছিলাম। আহারে আমি দুইটা মাইর খাইছিলাম কষ্ট হয় নাই তবে তুমার একটাতে যে কষ্ট পাইছিলাম। মনে আছে কি তোমার তোমাকে মারতে আসলে হাত পেতে দিতা যেন হাতে মারতে পারে  আর যখন মাইর দিত তখন এমন একটা এক্সপ্রেশনে চোখ বুঝতা যা আমি মনে করি তোমার প্রিয় অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া রায় ও পারবে না। তোমার প্রতিটা পিক্সেলে , মুভমেন্টে আমি ক্রাশ খাইতাম।

কোচিং এ গ্লাকসোকো থেকে লোক আসল হেপাটাইটিসের টিকা দিতে। মনে পড়ে ভয়ে তুমি মনে হয় দাও ই নাই। হেপাটাইটিস বি নির্মূলের  এর জন্য এরা উঠে পরে লেগেছিল। তবে এই কথাটার সত্যতা কিন্তু আমি না সূচী বলেছিল। 

ম্যাজিক বলের কথা কি মনে পড়ে? ছোট ছোট বল পানিতে ভেজালে বড় হয়ে যেত। ত্রপা চাইছিল আমার কাছে আমি তুমি সাথে বসে ছিলা তাই যা ছিল সব দিয়ে দিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম যদি তুমি নাও। 

মনে আছে কি রিমু মিস নজরুল স্যারের বউরে মাইর দিছিল। তার একটা প্রেম অবশ্য নজরুল স্যারের সাথেই ছিল। স্যারের বউ ম্যাডামের এই প্রেম ধরে ফেলছিল। 

আর এনি, একটাই গান গাইতে জানত কি যেন? কমিশনারের মেয়ের কথা তো তাই ভুলে গেছি। 

হুহ! এগোলা বলে কি লাভ? যখন খুজে পাইলাম। ফেবুতে নক করলাম। তুমি আমারে চিনলাই না! খুব কষ্ট নিয়েই সেদিন থেকে তোমাকে আর একটা কথাও বলতে মন চায়নি। ভাল থেকো। তুমি ভাল থাকলে ভাল থাকব আমি আর সবাই। 

ইতি – 

আমি । 

(আরও অনেক কথা বলার ছিল কিন্তু বলব না। বলে লাভ নেই। ও আর জ্বালাব না এটাই ফার্স্ট এন্ড লাষ্ট। ভাইয়াকে অবশ্যই চিঠিটা পড়তে দিবা। আমার সালাম দিবা ওনাকে। আর দুজনে মিলেমেশে থাকবা, নো ঝগড়া আর নো ফাইট!!!)

২৫-০৭-২০১৮ ইং 

ভোর, ০৪ঃ২২      

পুনশ্চঃ এর পরদিন তাঁর জামাই আসছিলো আমাকে খুঁজতে। ঢাকা থেকে ভোর বেলায় রউনা দিছিলো নাকি, আমি ঘুম থেকে উঠে সন্ধ্যায় বেচারার সাথে দেখা করি। যথেষ্ট নম্র ও ভদ্র, ভেবেছিলেন আমি তাঁর বউকে নিয়ে নিচ্ছি, কিন্তু ব্যাপারটা কখনোই এমন ছিল না। পরে আর তাঁকে নক দিই নি যদিও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *